জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ০১ বছর বিএড কোর্সে ভর্তি ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ গাইড
আসসালামু আলাইকুম। পিয়নমামা ডটকমের সম্মানিত ভিজিটর বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আপনি কি ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান? সরকারি বা এমপিও স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে ১ বছর মেয়াদী বি.এড (B.Ed) কোর্স সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আলোচনা করবো:
-
বি.এড কোর্স কী
-
কোর্সের প্রকারভেদ
-
ভর্তির যোগ্যতা
-
বিষয়সমূহ ও সিলেবাস
-
বেতন কাঠামো
-
চাকরির বাজার
-
কোর্স ফি
-
ভর্তি প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা
-
অনুমোদিত কলেজের তথ্য
সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
বি.এড কোর্স কী?
B.Ed (Bachelor of Education) হলো শিক্ষকতা পেশার জন্য একটি প্রফেশনাল স্নাতক সমমানের ডিগ্রি।
যারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে চান বা ইতিমধ্যে শিক্ষকতায় নিয়োজিত আছেন, তাদের জন্য এই কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বি.এড ডিগ্রিধারীরা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা মর্যাদা পেয়ে থাকেন এবং ১০ম গ্রেড বেতন স্কেলে চাকরির সুযোগ পান।
বর্তমানে ১ বছর মেয়াদী বি.এড কোর্স বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীন বি.এড ভর্তি টাইম লাইন : |
|---|
|
বি.এড কোর্সের প্রকারভেদ
বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের বি.এড প্রোগ্রাম চালু রয়েছে:
১) ৪ বছর মেয়াদী বি.এড (অনার্স)
-
এইচএসসি পাশের পর ভর্তি হতে হয়
-
৮ সেমিস্টারে সম্পন্ন
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু
২) ১ বছর মেয়াদী বি.এড (প্রফেশনাল)
-
স্নাতক বা অনার্স পাশের পর ভর্তি
-
২ সেমিস্টারে সম্পন্ন
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত
১ বছর মেয়াদী বি.এড কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীন ১ বছর মেয়াদী বি.এড কোর্সে ভর্তি হতে হলে:
-
স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ বছর মেয়াদী স্নাতক বা ৪ বছর মেয়াদী অনার্স ডিগ্রি থাকতে হবে
-
এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত যেকোনো এক পরীক্ষায় ৩য় বিভাগ বা GPA 2.00 থাকলেও আবেদন করা যাবে
-
বয়সসীমা নেই
-
ফাজিল/কামিল ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে বিএড সমমান কোর্স প্রযোজ্য
প্রতি বছর সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
দৃষ্টি আকর্ষণঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও বি.এড কোর্স করা যায় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই একই সমমানের। বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রকাশিত পোস্ট পড়ুন এখানে
বি.এড কোর্সে কী কী বিষয় পড়ানো হয়?
মূল বিষয়সমূহ:
-
শিক্ষাদানের কৌশল
-
পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন
-
শিশু বিকাশ
-
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান
-
কম্পিউটার দক্ষতা
-
অ্যাকশন রিসার্চ
গ্রুপভিত্তিক বিষয়সমূহ:
বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, আইসিটি ইত্যাদি।
নম্বর বিভাজন
-
মোট ১২০০ নম্বর
-
৬০% লিখিত
-
৪০% ব্যবহারিক
-
২০০ নম্বর প্রজেক্ট/প্রেজেন্টেশন
কোথায় শিক্ষকতার সুযোগ পাওয়া যাবে?
বি.এড সম্পন্ন করার পর:
-
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক
-
এমপিওভুক্ত স্কুল
-
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী:
-
১০ম গ্রেড (১৬,০০০ টাকা স্কেল)
-
বি.এড ছাড়া ১২,৫০০ টাকা স্কেল
বি.এড ছাড়া চাকরিতে যোগ দিলে ৪ বছরের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।
বি.এড কোর্সের চাহিদা ও চাকরির বাজার
বি.এড অনার্স বা প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ পান:
-
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার
-
পিটিআই ইন্সট্রাক্টর
-
একাডেমিক সুপারভাইজার
-
রিসোর্স সেন্টার প্রভাষক
-
এনজিও
-
মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ
শিক্ষা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
বি.এড কোর্স ফি কত?
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ
-
মোট খরচ: প্রায় ১২,০০০–১৩,০০০ টাকা
-
মাসিক বৃত্তি: ৩৩০ টাকা
-
হোস্টেল সুবিধা
বেসরকারি কলেজ
-
২৫,০০০–৪০,০০০ টাকা
ভর্তি প্রক্রিয়া (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
-
কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেই
-
স্নাতক ফলাফলের ভিত্তিতে মেধা তালিকা
-
১ম ও ২য় মেরিট
-
মাইগ্রেশন সুবিধা
শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিতদের ক্ষেত্রে সরাসরি কলেজে যোগাযোগ করতে হয়।
অনুমোদিত বি.এড কলেজের তালিকা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে:
-
৬টি সরকারি কলেজ যে গুলো টি.টি.সি হিসেবে পরিচিত
-
৯৩টি বেসরকারি কলেজ
-
প্রতিটি কলেজে ১০০–২০০ আসন
আবেদনের সময় জেলাভিত্তিক কলেজ নির্বাচন করা যায়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিএড কলেজ: সরকারি ও বেসরকারি কলেজের সনদপত্রের মান এক কি?
দ্রুত FAQ
-
পার্থক্য আছে কি? → নেই, সব সনদপত্র সমান মর্যাদার।
-
চাকরিতে সমস্যা হবে? → নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করলে নিরাপদ।
-
কোথা থেকে অফিসিয়াল তথ্য পাবো? → নিচের পিডিএফ লিঙ্ক থেকে।
কেন ১ বছর মেয়াদী বি.এড করবেন?
✔ দ্রুত প্রফেশনাল ডিগ্রি
✔ সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকা
✔ উচ্চ বেতন স্কেল
✔ শিক্ষকতায় স্থায়ী ক্যারিয়ার
আপনি যত দেরি করবেন, চাকরির প্রতিযোগিতায় তত পিছিয়ে পড়বেন।
শেষ কথা
বি.এড কোর্স শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনি যদি সিরিয়াসভাবে শিক্ষক হতে চান, তাহলে এ বছরই ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিন।
শিক্ষা, চাকরি প্রস্তুতি, কম্পিউটার টিপস ও অনলাইন ইনকাম বিষয়ে আরও আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন পিয়নমামা ডটকম।

