জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ গাইড
বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন উঠে— জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে যখন মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে, তখন আবার “অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স ভর্তি” কেন?
এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর জানতেই আজকের বিস্তারিত আলোচনা।
অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স ভর্তি কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়–এর মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগটি তুলনামূলকভাবে নতুন একটি উদ্যোগ।
২০২৩ সাল থেকে এই বিশেষ ভর্তিপদ্ধতি চালু হয়েছে, যেখানে সীমিত আসনের ভিত্তিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
এটি অধিভুক্ত কলেজের মতো নয়; বরং মূল ক্যাম্পাস-ভিত্তিক একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক প্রোগ্রাম।
![]() |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স ভর্তি ২০২৫-২৬ |
মাস্টার্স ফাইনাল ভর্তি যোগ্যতা ২০২৫ | NU ON Campus Masters Admission Qualification
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ফাইনাল প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। নিচে সহজ ভাষায় মাস্টার্স ফাইনাল ভর্তি যোগ্যতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ফাইনাল প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হলে –
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা মাস্টার্স প্রিলি পাশ হতে হবে।
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে ২০১৯ থেকে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) পাস শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
-
স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ / শ্রেণি অথবা CGPA 2.50 থাকতে হবে।
-
স্নাতক (পাস) এবং প্রিলিমিনারি মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও CGPA 2.50 বা দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।
মাস্টার্স কোর্সের বিষয় সমূহ: যে সব বিষয়ে ভর্তি হওয়া যাবে
ক্রঃ নং
ফ্যাকাল্টিসমূহ
বিষয়সমূহ
১
ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড ল
বাংলা, ইতিহাস, ইসলামিক স্টাডিজ, ইংরেজি
২
ফ্যাকাল্টি অব সোশাল সায়েন্সেস
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান
৩
ফ্যাকাল্টি অব ন্যাচারাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি
রসায়ন, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান
৪
ফ্যাকাল্টি অব বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস
প্রাণিবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গার্হস্থ্য অর্থনীতি
৫
ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, মার্কেটিং, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ON Campus মাস্টার্স ভর্তি টাইম লাইন : |
|---|
|
কোর্সের মেয়াদ ও শিক্ষা বৃত্তি
মাস্টার্স ফাইনাল প্রোগ্রামের মেয়াদ ১ বছর যা ৬ মাস মেয়াদী ২টি সেমিস্টারে বিভক্ত।
ফেলোশিপ সংক্রান্ত তথ্যাদি ও শতার্বলি মাস্টার্স ফাইনাল প্রোগ্রামে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় ৪ স্কেলে জিপিএ ৩.৮০ প্রাপ্ত হবেন তাদের প্রত্যেককে মাসিক নিধার্রিত হারে ১ বছরের জন্য বৃত্তি প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, মাস্টার্স ফাইনাল প্রোগ্রামে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীগণকে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নীতিমালা অনুযায়ী ভাইস—চ্যান্সেলর এওয়ার্ড প্রদান করা হবে।
অনক্যাম্পাসে পড়াশোনার মোট খরচ কত?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে (গাজীপুর) মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে প্রাথমিকভাবে ৫,০০০/- টাকা থেকে ৭,০০০/- টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
০১ বছরের মাস্টার্স কোর্স সমাপ্ত করতে মোট খরচ দাঁড়ায় আনুমানিক:
-
মূল ক্যাম্পাসে: সর্বনিম্ন ১৫,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
-
এই ব্যয় অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে আবাসিক সুবিধা (হল বা ছাত্রাবাস) নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।
অন ক্যাম্পাস মাস্টার্স ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও সিলেবাস:
সিলেবাস
- বিজ্ঞান বিভাগের জন্যঃ অনার্স কিংবা ডিগ্রি কোর্সে যে বিষয় গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সেই বিষয়ের উপর ১০০ মার্ক।
- মানবিক বিভাগের জন্যঃ অনার্স কিংবা ডিগ্রি কোর্সে যে বিষয় গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সেই বিষয়ের উপর ১০০ মার্ক।
- ব্যবসায় বিভাগের জন্যঃ অনার্স কিংবা ডিগ্রি কোর্সে যে বিষয় গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সেই বিষয়ের উপর ১০০ মার্ক।
পরীক্ষা পদ্ধতি
- MCQ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, পাশ ৩৫। নেগেটিভ মার্ক নেই।
- অনার্স/ডিগ্রি পরীক্ষার ফলাফলের উপর ৮০ মার্ক এবং ভাইভাতে ২০ মার্কমহ, মোট নম্বর ২০০।
- মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তি করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস ও অধিভুক্ত কলেজ: মূল পার্থক্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স প্রোগ্রাম সাধারণত দুইভাবে পরিচালিত হয়—
-
অন-ক্যাম্পাস
-
অধিভুক্ত কলেজ
নিচে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. অবস্থান ও পরিবেশ
অন-ক্যাম্পাস:
-
মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি ক্লাস
-
নিয়ন্ত্রিত ও উন্নত একাডেমিক পরিবেশ
অধিভুক্ত কলেজ:
-
স্থানীয় কলেজে পরিচালিত
-
পরিবেশ কলেজভেদে ভিন্ন হতে পারে
২. একাডেমিক কাঠামো
অন-ক্যাম্পাস:
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে
-
সিলেবাস কঠোরভাবে অনুসরণ
অধিভুক্ত কলেজ:
-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় পরিচালিত
-
কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বতন্ত্রতা থাকতে পারে
৩. পরীক্ষা ও সনদ
অন-ক্যাম্পাস:
-
সময়মতো পরীক্ষা
-
দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রবণতা
অধিভুক্ত কলেজ:
-
নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা
-
মাঝে মাঝে ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে
৪. সুযোগ-সুবিধা
অন-ক্যাম্পাস:
-
উন্নত লাইব্রেরি
-
ল্যাব সুবিধা
-
অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক
অধিভুক্ত কলেজ:
-
সুযোগ-সুবিধা কলেজভেদে কম-বেশি
৫. গ্রহণযোগ্যতা ও মূল্যায়ন
অন-ক্যাম্পাস ডিগ্রি:
-
সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত
-
অনেক ক্ষেত্রে চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় বেশি গুরুত্ব পায়
-
অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানের একাডেমিক পরিবেশে পরিচালিত
অধিভুক্ত কলেজ ডিগ্রি:
-
জাতীয়ভাবে স্বীকৃত
-
তবে কলেজের মান ও পরিচিতির উপর ভিত্তি করে মূল্যায়নে পার্থক্য হতে পারে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাসে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি:
আবেদনকারীকে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করতে হবে । অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াটি নিচে দেখানো হল:
কিভাবে আবেদন করতে হবে, তার নির্দেশিকা পিডিএফ ফাইলটি ওপেন করুন ও পড়ুন এখানে
সর্বপ্রথম প্রার্থীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট http://app1.nu.edu.bd/ তে প্রবেশ করতে হবে ।
নিচের মত উইন্ডো আসবে। সেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পাশের সাল, বোর্ড, রেজিঃ নম্বর ও রোল নম্বর ইনপুট করে ধাপে ধাপে কাজগুলো শেষ করতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র কিভাবে ডাউনলোড করবেন?
- ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৭ দিন আগে, পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) সংগ্রহ করতে হবে।বিশেষ করে পরীক্ষার আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করে নোটিশ দেখে নেওয়া ভালো।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে:
- অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফর্ম – ২ কপি
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি – ৪টি (ছবির পেছনে নাম লিখে দিন; তবে কলেজ ভেদে সংখ্যার তারতম্য হতে পারে)
- SSC, HSC, অনার্স কিংবা ডিগ্রি ও প্রিলি পাশের পরীক্ষার নম্বরপত্র (মার্কশিট) – মূল কপি ও ২টি ফটোকপি
- SSC, HSC, অনার্স কিংবা ডিগ্রি ও প্রিলি পাশের পরীক্ষার সার্টিফিকেট – মূল কপি ও ২টি ফটোকপি
- যাবতীয় পেমেন্টর মূলকপি তথা ব্যাংক পেমেন্ট স্লিপ।

