জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি ২০২৫-২৬ | যোগ্যতা ও আবেদন

📌 প্রথম প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
🔄 সর্বশেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬

পিয়নমামা ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন উঠে— জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে যেখানে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে, সেখানে আবার “অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি” বিষয়টি কেন এসেছে?

আসলে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগটি তুলনামূলকভাবে নতুন এবং অনেকটাই আলাদা। ২০২৩ সাল থেকে এই বিশেষ ভর্তিপদ্ধতি চালু হয়েছে, যেখানে সীমিত আসনের ভিত্তিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনার্স প্রোগ্রামে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫- শিক্ষাবর্ষের জন্য এই অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তিতে আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে, যা পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।

এই পোস্টে আমরা অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, ভর্তি সময়সূচি এবং অন্যান্য দরকারি দিকগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো। আশা করি, আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং উপকৃত হবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি ২০২৫-২০২৬ আবেদন যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (On Campus) অনার্স ভর্তি  টাইম লাইন 

  • আবেদন শুরু: ২৫/০৬/২০২৬ ইং
  • আবেদনের সমাপ্তি:  ২৩/০৭/২০২৬ ইং 
  • আবেদন ফি : ১০০০/- টাকা
  • আবেদন ফি জমাদানের শেষ তারিখ :  ২৩/০৭/২০২৬ ইং 
  • আবেদন পদ্ধতি : অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং আবেদন ফি জমা দিতে হবে
  • ভর্তি পরীক্ষা: জ্বী অবশ্যই দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর + বিগত পরীক্ষার ফলাফলের নম্বর যোগ করে মেধা তালিকা প্রকাশিত হবে।
  • ভর্তি পরীক্ষার তারিখ:  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পরবর্তী সময় জানিয়ে দেওয়া হবে
  • ভর্তি পরীক্ষার স্থান : পরবর্তী সময় জানিয়ে দেওয়া হবে
  • ফলাফল প্রকাশের তারিখ: পরবর্তী সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার অন্তত ১০ দিনের মধ্যেই ফলাফল দিয়ে দিবে।
  • ক্লাশ শুরুর তারিখ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে
  • ভর্তি পরীক্ষার পাশ নম্বর : ৩৫ পেলেই হবে। কোন নেগেটিভ মার্কিং নাই। 
  • ভর্তির নির্দেশিকা তথা কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন পিডিএফ ফাইল লিংক : এখানে

কেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স জনপ্রিয়?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রাম বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে পরিচালিত একটি বিশেষায়িত অনার্স প্রোগ্রাম, যেখানে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

এই প্রোগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ হলো নিয়মিত ক্লাস, দক্ষ শিক্ষকবৃন্দ, আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিযোগিতামূলক একাডেমিক কাঠামো। এছাড়া শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, যা সাধারণ কলেজভিত্তিক অনার্স শিক্ষার্থীরা সবসময় পায় না।

সীমিত আসন, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে অন-ক্যাম্পাস অনার্স বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

 অনার্স (On Campus) ভর্তির নূন্যতম যোগ্যতা

  • মানবিক শাখাতে ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভবে জিপিএ ৩.০ সহ মোট জিপিএ ৬.৫০ হতে হবে।  এইচ,এস,সি পাশের সাল ২০২৪, ২০২৫ হতে হবে।
  • বাণিজ্য তথা বিবিএ অনার্স শাখাতে ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভবে জিপিএ ৩.০ সহ মোট জিপিএ ৬.৫০ হতে হবে।  এইচ,এস,সি পাশের সাল ২০২৪, ২০২৫ হতে হবে।
  • বিজ্ঞান ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভবে জিপিএ ৩.৫০ সহ মোট জিপিএ ৭.৫ হতে হবে। 
  • আপনার কোন পরীক্ষার বিশেষত মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ যদি ৩.০ এর নিচে হয় তাহলে আপনি কোন ভাবেই অনার্স এর আবেদন করতে পারবেন না। 
  • আবেদনের ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা কিংবা নীল কালার ব্যবহার করবেন
  • অনলাইনে আবেদন হয়ে গেলে প্রিন্ট করা কপিটি অবশ্যই শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করে নিজের কাছে রাখবেন। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস কোর্স ও আসন বণ্টন (২০২৫)

বিঃদ্রঃ আসন সংখ্যা সময় ও নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

📘 কোর্সের নাম প্রক্রিয়া মোট আসন বিজ্ঞান  মানবিক  ব্যবসায়
এলএলবি (LLB) সকল গ্রুপ ৪০টি ২০% (৮টি) ৬০% (২৪টি) ২০% (৮টি)
বিবিএ (BBA) প্রক্রিয়ার জন্য ৪০টি ১০% (৪টি) ২০% (৮টি) ৭০% (২৮টি)
ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি প্রক্রিয়ার জন্য ৪০টি ২০% (৮টি) ৬০% (২৪টি) ২০% (৮টি)
নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিজ্ঞান গ্রুপ ৪০টি ১০০% (৪০টি)
মোট ১৬০টি ৬০টি ৫৬টি ৪৪টি

অন ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও সিলেবাস

সিলেবাস

  • বিজ্ঞান বিভাগের জন্যঃ বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, সাধারণ জ্ঞান-১০, পদার্থ বিজ্ঞান-১৭, রসায়ন-১৭, গণিত/জীববিজ্ঞান-১৬।
  • মানবিক বিভাগের জন্যঃ বাংলা-২৫, ইংরেজি-২৫, সাধারণ জ্ঞান-১০, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ের মধ্যে যে কোন চারটি বিষয়-৪০।
  • ব্যবসায় বিভাগের জন্যঃ বাংলা-২৫, ইংরেজি-২৫, সাধারণ জ্ঞান-১০, হিসাববিজ্ঞান-২০, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ-২০।

পরীক্ষা পদ্ধতি

  • MCQ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, পাশ ৩৫। নেগেটিভ মার্ক নেই।
  • এসএসসি জিপিএ এর ৪০% + এইচএসসি জিপিএ এর ৬০% = ১০০, মোট নম্বর ২০০।
  • কলেজে আবেদন করে ২০০ মার্কের মধ্যে যার মার্ক বেশি সে আগে চান্স পাবে। এইভাবে সিট বরাদ্দ হবে। চান্স পাওয়ার পর সাবজেক্ট পছন্দ না হলে রিলিজ স্লিপে ৫টি কলেজে আবেদন করতে পারবেন।

অন-ক্যাম্পাস অনার্সে পড়ার সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাসমূহ

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অধ্যয়নের সুযোগ।
  • নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম।
  • তুলনামূলকভাবে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ।
  • সীমিত শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ সহজ।
  • সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
  • গবেষণা, সেমিনার ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ।

অসুবিধাসমূহ

  • আসন সংখ্যা খুবই সীমিত।
  • ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি।
  • ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
  • কিছু বিভাগে আসন সংখ্যা কম হওয়ায় ভর্তি হওয়া কঠিন হতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে মানসম্মত শিক্ষা ও ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এটি একটি ভালো উচ্চশিক্ষার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন-ক্যাম্পাস অনার্স বনাম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: কোনটি ভালো?

অনেক শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন থাকে—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স নাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কোনটি বেশি ভালো?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত স্বায়ত্তশাসিত এবং নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো অনুসরণ করে। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ প্রোগ্রাম।

যদি কোনো শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পায়, তাহলে অন-ক্যাম্পাস অনার্স একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। কারণ এখানে নিয়মিত ক্লাস, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়া বিদ্যমান।

চাকরি, উচ্চশিক্ষা এবং বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে উভয় ধরনের ডিগ্রিই গ্রহণযোগ্য। তাই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, পছন্দ এবং সুযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

অনার্স ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোন গাইড বই পড়বেন?

যদি আপনি আগে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা ৭ কলেজ ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করে থাকেন, তাহলে নতুন করে আলাদা গাইড বই কেনার দরকার নেই। সেই কোচিংয়ের স্যারের লেকচার, লেকচার শিট কিংবা আগের গাইডগুলোই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট কাজে লাগবে।

এছাড়াও কিছু কোচিং সেন্টার নিজেদের প্রস্তুতি বইও প্রকাশ করে থাকে, সেগুলোও সাহায্য করতে পারে।

কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র সাধারণত খুব একটা কঠিন হয় না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে ৮০% প্রশ্ন কঠিন হয়ে থাকে, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রায় ৬০% সহজ ও সাধারণ মানের হয়ে থাকে।

তবে যদি আপনি আগে কোনো প্রস্তুতি না নিয়ে থাকেন কিংবা কোচিং না করে থাকেন, তাহলে একটি ভালো মানের ভর্তি গাইড কিনে প্রস্তুতি শুরু করাই সবচেয়ে ভালো।

বইয়ের দোকানগুলোতে আপনি পাবেন বিভিন্ন নামকরা প্রকাশনীর গাইড যেমন:

  • লেকচার
  • ব্যতিক্রম
  • জয়কলি
  • দিকদর্শন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাসে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি

আবেদনকারীকে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াটি নিচে দেখানো হলো:

  • কিভাবে আবেদন করতে হবে, তার নির্দেশিকা PDF ফাইলটি ওপেন করে ভালোভাবে পড়ুন এখানে
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন http://app1.nu.edu.bd/
  • এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পাশের সাল, বোর্ড, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং রোল নম্বর ইনপুট করুন।
  • প্রয়োজনীয় তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করুন।
  • সদ্য তোলা ছবি আপলোড করুন।
  • আবেদন ফি পরিশোধ করুন।
  • আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।

অনার্স ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র কিভাবে ডাউনলোড করবেন?

ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৭ দিন আগে পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) সংগ্রহ করতে হবে।

বিশেষ করে পরীক্ষার আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করে সর্বশেষ নোটিশ দেখে নেওয়া ভালো।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মেধা তালিকায় স্থান পেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে:

  • অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফর্ম – ২ কপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি – ৪টি (ছবির পেছনে নাম লিখে দিন; তবে বিভাগভেদে সংখ্যার তারতম্য হতে পারে)
  • SSC/সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্র (মার্কশিট) – মূল কপি ও ২টি ফটোকপি
  • HSC/সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্র (মার্কশিট) – মূল কপি ও ২টি ফটোকপি
  • SSC রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি – ২ কপি
  • HSC রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি – ২ কপি
  • HSC প্রশংসাপত্র (Character Certificate) – মূল কপি ও ২টি ফটোকপি
  • শিক্ষাবিরতি সনদ – কেবল ২০২৩ সালে HSC পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য
  • কোটার সনদপত্র – যারা মুক্তিযোদ্ধা বা পোষ্য কোটায় আবেদন করেছেন তাদের জন্য প্রযোজ্য

অনার্স ভর্তি ও ৪ বছরে মোট খরচ কত?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস (গাজীপুর)-এ অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে প্রাথমিকভাবে ১২,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

এখানে প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

চার বছরের পুরো অনার্স কোর্স শেষে মোট শিক্ষাব্যয় দাঁড়াতে পারে:

  • সর্বনিম্ন: ৪৫,০০০ টাকা
  • সর্বোচ্চ: ৬০,০০০ টাকা

এই ব্যয় অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে আবাসিক সুবিধা (হল বা ছাত্রাবাস) নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

উপসংহার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া এখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ। সীমিত আসনে ভর্তি হলেও এখানে শিক্ষার মান, পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং গ্রহণযোগ্যতা অন্য যেকোনো সাধারণ কলেজের তুলনায় অনেক উন্নত।

এই পোস্টে আমরা অন-ক্যাম্পাস ও অধিভুক্ত কলেজের পার্থক্য, কোর্স ও আসন বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আপনি যদি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন এবং নিয়মিত অফিসিয়াল তথ্য আপডেট অনুসরণ করুন।

🎯 ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন লিংক পেতে পিয়নমামা ডটকম সাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স কী?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি পরিচালিত চার বছর মেয়াদি স্নাতক (অনার্স) প্রোগ্রামকে অন-ক্যাম্পাস অনার্স বলা হয়। এটি কলেজভিত্তিক অনার্স থেকে আলাদা।

২. অন-ক্যাম্পাস অনার্স ভর্তি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কারা আবেদন করতে পারবে?

যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত GPA এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছে, তারা আবেদন করতে পারবে।

৩. অন-ক্যাম্পাস অনার্সে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয় কি?

হ্যাঁ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।

৪. ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরন কেমন হয়?

সাধারণত এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকতে পারে।

৫. অন-ক্যাম্পাস অনার্সে কতটি আসন রয়েছে?

আসন সংখ্যা বিভাগভেদে ভিন্ন হতে পারে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত আসন সংখ্যাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

৬. অন-ক্যাম্পাস অনার্সের ডিগ্রি কি সরকারি চাকরির জন্য গ্রহণযোগ্য?

হ্যাঁ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অনার্স ডিগ্রি সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, বিসিএস এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।

৭. অন-ক্যাম্পাস অনার্সে পড়ার প্রধান সুবিধা কী?

নিয়মিত ক্লাস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অধ্যয়নের সুযোগ, সীমিত শিক্ষার্থী এবং মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশ এর প্রধান সুবিধা।

৮. অন-ক্যাম্পাস অনার্সে আবেদন করার জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে。

৯. ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?

পূর্ববর্তী প্রশ্ন বিশ্লেষণ, বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, সাধারণ জ্ঞান চর্চা এবং নিয়মিত মডেল টেস্টের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

১০. অন-ক্যাম্পাস অনার্সে ভর্তির পর কি মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে?

হ্যাঁ। অনার্স সম্পন্ন করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

Next Post Previous Post
2 Comments
  • নামহীন
    নামহীন ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ১২:২১ PM

    অংক্যাম্পাস ভর্তির নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে কি?
    আর কত তারিখে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে?

    • পিয়নমামা ডটকম (PeonMama)
      পিয়নমামা ডটকম (PeonMama) ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ৭:০৮ PM

      আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। আগামী ২৭/০৯/২০২৫ ইং তারিখ সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাস, ঢাকাতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ও ডাউনলোডকৃত প্রবেশপত্রে তথ্য গুলো উল্লেখ থাকবে।

Add Comment
comment url
sr7themes.eu.org
🎉

আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম!

পিয়নমামা ডটকম ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ। শিক্ষা, চাকরি, অনলাইন ইনকাম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

WhatsApp এ Join করুন