এইচএসসি কোথায় ভর্তি হবেন? জেনারেল, কারিগরি নাকি বাউবি—কোনটি ভালো?

📌 প্রথম প্রকাশ: ০৮ আগষ্ট ২০২৩
🔄 সর্বশেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম।

পিয়নমামা ডটকম ব্লগের পক্ষ থেকে সকল প্রিয় শিক্ষার্থী ও সম্মানিত ভিজিটরদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি সবাই আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ ও ভালো আছেন। ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও কর্মব্যস্ততার কারণে এই পোস্টটি প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে যেহেতু বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই সময় নিয়েই তথ্যভিত্তিক ও পরামর্শমূলক পোস্টটি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (BOU) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তারা বাউবিতে এইচএসসি করতে আগ্রহী হলে এখনই প্রস্তুতি নিতে পারেন।

👉 বাউবির এইচএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে।

বিশেষ করে যারা ২০২৬ সালে বাউবির এসএসসি (মাধ্যমিক) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুব দ্রুতই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী দ্বিধায় আছেন—এসএসসি পাসের পর এইচএসসি ভর্তি কোথায় করা উচিত?

  • 🎓 জেনারেল শিক্ষাবোর্ড: কলেজভিত্তিক ক্লাস, রেগুলার পরীক্ষার নিয়ম।

  • 🛠️ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড: টেকনিক্যাল সাবজেক্ট ভিত্তিক, চাকরি খোঁজার জন্য কার্যকর।

  • 🌐 বাউবি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়): ফ্রি টাইমে ক্লাস, চাকরি বা ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী।

যারা বাউবি থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন, তাদের জন্য কোথায় ভর্তি হওয়া ভালো হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা স্বাভাবিক। মূলত এই দুশ্চিন্তা কাটাতেই আজকের এই লেখা।

 
HSC-Admission

বাউবি হতে এসএসসি পাশকৃত শিক্ষার্থীরা কোথায় ভর্তি হতে পারবে:

উন্মুক্ত (বাউবি) হতে এসএসসি পাশকরা শিক্ষার্থীরা ২০২৬-২৭ ইং শিক্ষাবর্ষের এইচএসসির নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেঃ

১। দেশের যে কোন জেনারেল শিক্ষা বোর্ডঃ

জেনারেল শিক্ষাবোর্ড বলতে ঢাকা, রাজশাহী, যশোর সহ সাধারন ০৮ টি বোর্ডে। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ ইং সালে যে কোন শিক্ষাবোর্ড হতে পাশকৃত শিক্ষার্থী এবং বাউবি হতেও পাশকৃত শিক্ষার্থী এইচএসসি ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। আপনি জেনারেল শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বাংলাদেশের কোথায় ভর্তি হতে/পড়তে চান সেটি xiclassadmission ওয়েব সাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। প্রথমে আবেদন ফি ২২০/- টাকা পরিশোধ করতে হবে। অতপর প্রয়োজনীয় তথ্যদিয়ে লগইন করলে কাংখিত কলেজে লিস্ট দেখতে পাবেন।এখান হতে আপনি সর্বনিম্ন ০৫ টি কলেজের তালিকা যোগ করতে পারবেন। অতপর ফলাফল পাবলিশ হওয়ার পর আপনাকে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ যে কলেজ মনোনীত করবে সেখানে ভর্তি নিশ্চয়ন ফি পরিশোধ করে ভর্তি হতে হবে।

দৃষ্টি আকর্ষণঃ এইচ,এস,সি (একাদশ) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন কিভাবে করবেন, আবেদনের সময়সীমা কবে,  কত টাকা লাগবে সেই সব তথ্য নিয়ে একটি মেগা পোস্ট রয়েছে । পোস্টে লিংক নিচে-

 

HSC_Admssion_Site

জেনারেল শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশিকা, ভর্তির যোগ্যতা, কিভাবে আবেদন করবেন, ফি পরিশোধ করবেন ও অন্যান্য শর্তাবলী জানতে নিচের লিংকে ভিজিট করুন:

বাউবি শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেল বোর্ডে পড়াশোনার অসুবিধা ও পরামর্শ

বাউবি হতে যারা এসএসসি পাশ করেছেন তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো কোন আবেগ, উদ্দীপনা কিংবা অনভিজ্ঞ ব্যক্তির কথাতে কান দিয়ে জেনারেল বোর্ডের অধীনে ভর্তি হয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন না। সিরিয়াসলি যারা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চান, পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার্থে ভাল কোন প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স/ডিগ্রি করতে চান তারা ইচ্ছা করলে জেনারেল বোর্ডে ভর্তি হতে পারেন। অর্থাৎ মনে একটা জেদ ভাব আছে যে, আমাকে করতেই হবে, অন্যকে দেখিয়ে দিবো এমন হলে অবশ্যই জেনারেল শিক্ষাবোর্ড চয়েজ দিতে পারেন। আমার অভিজ্ঞতাতে দেখেছি যে, অনেকে বাউবি হতে পাশ করে এসে নিজেকে ফ্যাশন শো দেখানোর জন্য, জেনারেল স্টুডেন্টদেরকে জাহির করার জন্য এখানে ভর্তি হয়ে যেটুকু স্বপ্ন ছিলো তা শেষ করে দিয়েছে। আমি এখানে বাউবি স্টুডেন্টদেরকে ছোট করার জন্য বলছিনা, বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বলছি। বাউবির এসএসসিতে যারা সি,বি গ্রেড পেয়েছেন তাদের পরামর্শ হলো আপনাদেরকে জেনারেল বোর্ডে এইচএসসিতে ভর্তি না হওয়ার অনুরোধ করবো। জেনারেল শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাউবির স্টুডেন্টেদের পড়াশোনার মটিভেশন, স্কীল ৯০% কম থাকে। তাছাড়া জেনারেলে পড়াশোনা করতে গেলে ইংরেজিতে অনেক ভালো হতে হয়, বাউবি হতে বইগুলোর কলেবর অনেক বড়, ক্ষেত্র বিশেষ প্রাইভেট পড়তে হয়, তাছাড়া নিয়মিত ক্লাশ করারও বিধি-বিধান তো আছেই।

HSC-Admission

জেনারেল শিক্ষা বোর্ডে পড়াশোনার খরচ

 সরকারি কলেজগুলোতে বিশেষত জেলা কিংবা উপজেলাতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে ০২ বছরে শিক্ষার ব্যয় হয়ে থাকে সর্বসাকুল্য ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। বেসরকারি কলেজ গুলোতে ১০,০০০/- পর্যন্ত ব্যয় হয়। অপরদিকে ঢাকা মহানগর কিংবা সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত বেসরকারি কলেজ গুলোতে ব্যয় হয় ১৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

২। কারিগরী শিক্ষা বোর্ড

যারা বাউবি হতে এসএসসি পাশ করেছেন ব্যক্তিগত ভাবে তাদের জন্য আমার সাজেস্ট হলো আপনি কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমটি কোর্সে ভর্তি হওয়া। বিএমটি হলো ০২ বছরের এইচএসসি সমমান ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা টেকনোলজী বিষয়ক কোর্স। এটা উন্মুক্ত এবং জেনারেল বোর্ডের পড়াশোনার কোর্স হতে অনেক সহজ। বলা যেতে পারে এই কোর্সে মার্ক/জিপিএ অনেক সহজে পাওয়া যায়। বিশেষত যারা এসএসসিতে কম স্কোর পেয়েছেন কিন্তু আশা আছে পরবর্তী সময়ে ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে অনার্স/ডিগ্রি ভর্তি হওয়ার। সেখানে কিন্তু ভর্তি হওয়ার জন্য ভালো একটা স্কোর ভূমিকা রাখবে। সুতরাং সহজ পর্যায়ে জিপিএ ভালো করার জন্য কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের বিএমটি কোর্সের কোন বিকল্প দেখছিনা।  মূলত এখানের প্রতিটা কোর্সে লিখিত বোর্ড পরীক্ষা হয়ে থাকে ৬০ মার্কের এবং স্যারেদের হাতে থাকে ৪০ মার্ক। বিএমটি কোর্সের পড়াশোনা গুলো অনেকটাই প্রাকটিক্যাল। এখানে যে কোন বয়সের কিংবা যে কোন সালের যে কোন গ্রেডে পাশকৃত শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। প্রতি বছর জেনারেল বোর্ড একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। আরেকটি বিষয় এই কোর্সে ভর্তি হলে জেনারেলদের মত প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন পড়েনা। ঠিক একই সময়ে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডও এইচএসসি বিএমটি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে।  
 
BMT_Admision_Site

কারিগরী শিক্ষা বোর্ডে পড়াশোনার খরচ 

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমটি কোর্সগুলো মুলত বেসরকারি বিএমটি কলেজগুলোতে পাঠদান করা হয়, সরকারি ভোকেশনাল কলেজগুলোতে এখনো চালু হয়নি। এই সকল প্রতিষ্ঠানে ০২ বছরে শিক্ষার ব্যয় হয়ে থাকে সর্বসাকুল্য ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশিকা, ভর্তির যোগ্যতা, কিভাবে আবেদন করবেন, ফি পরিশোধ করবেন ও অন্যান্য শর্তাবলী জানতে নিচের লিংকে ভিজিট করুন:

৩। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)

কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের মতই যে কোন বয়সের কিংবা যে কোন সালের যে কোন গ্রেডে পাশকৃত শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। বিশেষত যারা শিক্ষার্থী হিসেবে অতি প্রবীণ এবং শুধুমাত্র নিজের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে চান অর্থাৎ জাস্ট একটা সনদ হলেই হলো তাদের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটাই বেস্ট হবে।কিন্তু যাদের অন্য উদ্দেশ্য যেমন চাকুরী, উচ্চতর পড়াশোনা যে বিষয়গুলো উপরের আলোচনাতে বলেছি সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য আমি বাউবিকে সাজেস্ট করিনা তার অন্যতম কারনগুলো হলোঃ 
 
Bangladesh_Open_University
  • যদি বাউবি থেকে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পাশ করে পরবর্তীতে অনার্স ভর্তি হতে চান তাহলে অধিকাংশই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাউবির শিক্ষার্থীদের এলাউ করেনা। অপরদিকে বাউবিতে যারা কম স্কোর কিংবা জিপিএ পেয়ে পাশ করবেন তাদের কিন্তু সরকারি কলেজগুলোতেও অনার্স করার শেষ সুযোগও হয়না।
  • সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষার মান এক হলেও অনেক চাকুরী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর অনেকেই বাউবির শিক্ষার্থীদের বাঁকা চোখেই দেখে।
  • আরেকটি বিষয়ে না বলে পারছিনা তাহলো জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন সনদে বয়স সংশোধন করার ক্ষেত্রে অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানই বাউবির শিক্ষার্থীদের সনদগুলো দিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে।
  • ফলাফল প্রকাশ ও মার্কসীট বিতরনেও দীর্ঘ সময় নেয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। যেমনঃ আপনি বাউবি হতে এইচ.এস.সি পাশ করে জেনারেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে যাবেন ঠিক উক্ত সময়ে দেখবেন হয়ত আপনার মার্কসীট আসে নাই কিংবা বাউবির সার্ভার বন্ধ আছে। ফলে কি হচ্ছে আপনাকে বাধ্য হয়েই পরবর্তী শিক্ষা নিতে পূনরায় বাউবিতেই আপনাকে ভর্তি হতে হচ্ছে কিংবা থাকতে হচ্ছে। আসলে এমনটা করা হচ্ছে উন্মুেক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অভিনব কৌশল যাতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য কোথাও না যেতে পারে। আমি নিজেও এর ভূক্তভোগী ছিলাম যেটার গল্প আরেক দিন বলবো। তাছাড়া অনেককেই সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখেছি উন্মুক্ত হতে পাশ করে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ

বাউবির অধীনে এইচএসসি কোর্সগুলো মুলত সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে টিউটোরিয়াল কেন্দ্র হিসেবে পাঠদান করা হয়। এই সকল প্রতিষ্ঠানে ০২ বছরে ফর্ম পূরন+রেজিঃ+পরীক্ষার ফিসসহ শিক্ষার ব্যয় হয়ে থাকে সর্বসাকুল্য ৮-১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। আরেকটি বিষয় এখানে জেনারেল কিংবা কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের মত নিজ খরচে কোন বই ক্রয় করতে হয়না। 

কিভাবে ভর্তি হবেন কিংবা ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকা, ভর্তির যোগ্যতা, কিভাবে আবেদন করবেন, ফি পরিশোধ করবেন ও অন্যান্য শর্তাবলী জানতে নিচের লিংকে ভিজিট করুন:

  • উপরোক্ত লিংকে ক্লিক করলে নিচের মত ইন্টারফেস চিত্র আসবে > Offered Program অপশন হতে Open School এ ক্লিক করে Higher Secondary Certificate প্রোগ্রামের পাশে প্রদর্শিত ভর্তি নির্দেশাবলী (learner's guide এবং View details ) গুরুত্ব সহকারে পড়ে (+) কিংবা (-) এ ক্লিক করলে যে কোর্সগুলোতে ভর্তি চলছে সেখানে Apply Now লেখা আসবে। 
BOU Apps

  • অতপর উপরের লিংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো দিয়ে ফর্ম পূরন করবেন।
  • ফর্ম পূরণ শেষে আপনাকে ভর্তি কনফার্ম করার জন্য ভর্তির প্রয়োজনীয় টাকা অনলাইনে পে করতে হবে।
  • অতপর যাবতীয় প্রিন্ট কপি গুলো নিয়ে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে নিকটস্থ বাউবির অফিসে যেতে হবে।

এইচ,এস,সি ভর্তির বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা ও তিক্ততা

  • অনেকেই প্রশ্ন রাখতে পারেন ভাই! আপনি কিসের ভিত্তিতে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন? তাহলে তার প্রতিত্তরে বলবো যে, ভাই আমি নিজেও বাউবি হতে এসএসসি পাশ করেছিলাম। অতপর সেই সময়ে ২০১৫ সালের দিকে নিজে অনুসন্ধানী ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিএমটি ট্রেড হতে এইচএসসি পাশ করি। আলহামদুলিল্লাহ্ পরিশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ০৭ কলেজ হতে ২০২২ ইং সালে অনার্স পাশ করি। সত্যি কথা বলতে কি ঐ সময়ে আমার সাথে বাউবি হতে যারা এসএসসি পাশ করেছিলো এবং আমার থেকেও যারা জিপিএ ভালো পেয়েছিলো তারা কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবেগের তাড়নায় জেনারেল বোর্ডে ভর্তি হয়েছিলো। অবশেষে তাদের কারোরই অনার্স/ডিগ্রি শেষ করতে পারে নাই।
  • এর মূল কারণ হলো জেনারেলে ভর্তি হয়ে রেগুলারভাবে পাশ করে বাহির হতে পারে নাই আবার অনেকের এইচএসসিতে ভালো ফল করতে পারে নাই। সুতরাং এবার বুঝতেই পারছেন আমার অভিজ্ঞতার কথা! শুধু অভিজ্ঞতা নাই তিক্ততাও রয়েছে যেমন: ওপেন/বাউবি হতে এসএসসি পাশ করার কারনে আমি সেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে অনার্স ভর্তির আবেদন করার সুযোগ হয়নি। 
  • এই রকম বাস্তব অভিজ্ঞা ও তিক্ততায় পরিপূর্ণ এসএসসি হতে শুরু করে অনার্স কিভাবে শেষ করলাম প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে। আসলে এখানে আমার নিজেকে জাহির করার জন্য নই, আপনাদেরকে মোটিভেশন দেওয়ার জন্যই আমাকে এই কথাটুকু বলতে হলো।

সর্বশেষ:

এসএসসি পাস করার পর এইচএসসিতে কোথায় ভর্তি হবেন—জেনারেল, কারিগরি নাকি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি), সেটি নির্ভর করবে আপনার পড়াশোনার লক্ষ্য, সময়, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। নিয়মিত কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ ও ইচ্ছা থাকলে জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো একটি পন্থা হতে পারে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা বেছে নেওয়া যেতে পারে। আর যারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন না বা তুলনামূলকভাবে নমনীয়ভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য বাউবি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

তাই অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক শিক্ষাব্যবস্থা নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, কোন শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো—তার চেয়ে আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য আমাদের ব্লগ সাইট ভিজিট করতে ব্রাউজারের সার্চবার কিংবা গুগলে গিয়ে পিয়নমামা ডটকম কিংবা Peonmama লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। আরেকটি বিষয়, পিয়নমামা ডটকম সাইটে শুধু লেখাপড়া বিষয়ক নই পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে চাকরির বিজ্ঞপ্তি, কম্পিউটার টিপস, অনলাইনে ইনকামের কৌশল, ফ্রিল্যান্স, ক্যারিয়ার আড্ডা, সফটওয়্যার রিভিউ ও ই-কমার্স  নিয়ে পোস্ট পাবলিশ করা হবে।  
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
sr7themes.eu.org
🎉

আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম!

পিয়নমামা ডটকম ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ। শিক্ষা, চাকরি, অনলাইন ইনকাম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

WhatsApp এ Join করুন